ফাগুন মাসের শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সূর্যটা আড়মোড়া ভাঙে। উঠি কি না উঠি করে করেও এখন অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে মেঘের কানাগলিতে খাবি খায়। বালিহাঁস রং হালকা মেঘের বেলুন ছড়াৎ করে ছিঁড়ে ফেলে বিজয়ীর হাসি মুখে নিয়ে বিলোতে থাকে রোদ, অফুরান রোদ। পাইরেস্কের মগে গুলে রাখা লেমন টী-রঙা রোদে ধানীজমি, লাউ কুমড়ো উচেছর মাচা ভেসে যেতে থাকে।
তার উপর বয়ে যেতে থাকে লাজুক লতার মতো তিরতিরে ঝিরঝিরে বাতাস, আর তাতেই দুলে দুলে ফুলে ফুলে ওঠে সবজির মাচান। দুপাশে নাকফুলের মতো গুটি গুটি ধানের শীষ মাথায় নিয়ে নাচতে থাকা ক্ষেতটার বুক ক্ষত-বিক্ষত করে, খুবলে খুবলে রক্ত, মাংস তুলে ইট-সিমেন্টের ব্যান্ডেজ বেঁধে বানানো হয়েছে সড়ক, সরকারি পাকাসড়ক। ব্যস্ত সড়কের দুপাশে মস্তবড় গাছগুলোর বেশির ভাগই এখন পত্র-পল্লবহীন। ফাগুনে বাতাসের আগুনে তাপ বুকে নিয়েও কিছু গাছে নবীন পাতারা ঝিলিক মারে।