প্রতিদিন ফজরের আজান শুনে কল্যাণীর ঘুম ভাঙে। শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে গেছে মুয়াজ্জিনের আহবান। আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম (ঘুম থেকে নামাজ উত্তম)। সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য এর চেয়ে ভালো আহ্বান আর হতে পারে না। কল্যাণী বিছানা ছেড়ে হাতে মুখে জল দিয়ে বাসি কাপড় পালটে বেরিয়ে পড়ে। সাধারণত স্কুল এরিয়ার ভেতরেই প্রতিদিন মর্নিংওয়াক করে। আজ কেন জানি নিজের অজান্তেই স্কুলের মেইন গেট খুলে বড়ো রাস্তায় চলে আসে।
জনমানবহীন রাজপথে প্রাতঃভ্রমণকারী কল্যাণীর মাথায় একটি কথা বার বার ঘুরপাক খায়। ওরা পারলে আমরা পারি না কেন? গতকালের খবরের কাগজের একটি সংবাদ কল্যাণীকে অশান্ত করে তুলেছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নির্যাতিত মহিলারা যদি বিচার চেয়ে রাজপথে মিছিল করতে পারে, তাহলে ৭১-এর নির্যাতিত মহিলারা রাস্তায় নামতে বাধা কোথায়? আনমনা কল্যাণী ভাবে প্ল্যাকার্ড হাতে সে মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার পেছনে হাজার হাজার ধর্ষিতা রকমারি প্ল্যাকার্ড হাতে মৌন মিছিলে অংশ নিয়েছে।