বোবা ধরেছে বকুলকে। কেমন মরা একটা গাছের মতোন নুয়ে আছে বিছানায়। শেষবারের মতো ঝরে পড়ছে সব শুকনো পাতা, ওর শরীর থেকে। মরা সব ডাল মর্মর শব্দে ভেঙে পড়ছে। মনের ভেতরে বিশ্রী ঝড়টা তোলপাড় করে দিচ্ছে বকুলকে। ভালোবাসা মানুষকে শেষমেশ, এমন একটা মুহূর্তের কাছে নিয়ে আসে, যখন মনে হয়, আহারে, কেন যে ভালোবেসেছিলাম! ওলটপালট হয়ে গেছে বকুলের সব হিসেব। বকুল জানে, আর হয়তো এই হিসেব মিলবে না কোনোদিন।
একটা ভয়ঙ্কর আশঙ্কায় বকুলের মন, শরীর সব ছটফট করছে। থেমে থেমে, ছোট হয়ে আসছে শ্বাস। বকুলের মনে হচ্ছে, সে একটা গর্তে পড়ে গেছে হঠাৎ করে। বাঁচার আকুতি নিয়ে মাথা তুলে তাকিয়ে আছে উপরের দিকে। রথী আসলো সেখানে। সাথে আজহারও আছে। একটা বন্দুক হাতে তুলে নিলো রথী। আজহার পাশে দাড়িয়ে হাসছে। উল্লাস করে হাসছে।
আজহার রথীকে বলছে, এবার আমাদের পালা, রথী। ওর মাথা বরাবর একটা গুলি কর। ওর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নাই।