ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা। কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আগেই এদেশের শিল্প ধ্বংস করেছিল। ক্ষমতা দখলের পর ভ‚মি রাজস্ব নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। আইন প্রয়োগের ফলে অনেক বনেদি জমিদার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। দরিদ্র কৃষকের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয়। জমিদার ও রাজস্ব আদায়কারীদের তীব্র শোষণের শিকার এসব কৃষক মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। বিদ্রোহ এবং বিদ্রোহীদের সংবাদ প্রেরণের কোন সংগঠন ছিল না। প্রকৃত সংহতি ছাড়াই কোম্পানির ভারতীয় সৈন্যবাহিনীতে এই মহাবিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। ফলে একযোগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ শুরু হলে ব্রিটিশ শক্তির যে সমূহ বিপদ ঘটতে পারতো তা হয়নি। অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ধারার মধ্যে যোগাযোগের অভাব দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ কর্মপন্থা ও উদ্দেশ্য অনুসরণ করে চলেন। – শামসুদ্দিন পেয়ারা