সেই কবেই ঘর ছেড়েছি ভোরের স্নিগ্ধ ফুল দেখব বলে। তারপর সন্ধ্যার মায়াবী পাখিরাও ডাকল ইশারায়। সেই থেকেই শুরু, ঘরে আর ফেরা হয়নি। ফিরবই বা কী করে, এ দেখার যে শেষ নেই। প্রতিদিনই আমার জন্য অপেক্ষা করে নতুন নতুন কিছু। এ ভাবেই সময় গড়ায়; দিন যায়, মাস আসে, একসময় বছর ফুরিয়ে যায়। কিন্তু দেখা আর শেষ হয় না। সবাই নীল পদ্ম খুঁজলেও আমি খুঁজি শ্বেত পদ্ম, চাঁদমালা, হিজল, তমাল, বট-অশ্বত্থ-পাকুড়। একদিন পেয়ে যাই মাঠপারের নিঃসঙ্গ হিজলটিকে। সে আমাকে দুলিচাঁপার গল্প শোনায়। বিজয়ী সম্রাটের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের কাছে গেলে আমাকে আপন করে নেয় লজ্জাবতী, তুলসী, বনওকরা। নিবিড় অরণ্যের ফাঁক গলে ছুটে চলা সর্পিল পথ, আকাশের ভাঁজে ভাঁজে তুলোমেঘ, সবটুকু পথই যেন অপার রহস্যে ঘেরা। কখনো খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে ওঠা, আবার কখনো ধাই ধাই করে নিচে ছুটে চলা। এ ভাবেই একদিন বটের সন্ধানে এসে পৌঁছাই এক শৈল শহরে।