এক. রোববার নাকি ভূতের নাতির জন্মদিন। টিংকু দাদুর কাছ থেকে শুনে ওর বন্ধুদের বলেছে কথাটা। রুহা, আদিবা, তানহা প্রথমে শুনেতো একেবারে হা। যাঃ এ আবার হয় নাকি। ভূত টুত বলে কিছু নেই। গম্ভীর স্বরে বলেছিল আদিবা। তানহাও মিন মিন করে বলেছে ভূত থাকেতো গল্পের বইয়ে। ভূতই নেই। তার আবার জন্মদিন। রুহা গালে দু'হাত ঠেকিয়ে বিজ্ঞের স্বরে বলেছিল, কী জানি বাপু পৃথিবীতেতো কতোকিছুই বাস করে। আমরা কি আর সব জানি? ভূত থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু টিংকু দৃঢ়স্বরে বললো, তোরা জানিস না আমার দাদু একদম মিথ্যে কথা বলেন না। দাদু যখন বলেছে নিশ্চয়ই ভূত বলে কিছু একটা আছে। টিংকুর দৃঢ়তা দেখে ওরা সবাই কিছুটা দমে গেল। তবু আদিবা বিড় বিড় করে বলছিল, আমি বাপু এসব গাঁজাখুরিতে বিশ্বাস করিনা। যত্তোসব। এইবলে সে একটা সায়েন্স ফিকশনের পাতা উল্টিয়ে তাতেই ডুবে গেল। বাকী সবাই হৈ চৈ করতে লাগলো। ভূতের নাতির জন্মদিন পালন করতে তারা টিংকুদের বাসায় আসছে রোববার যাবে কিনা। সেদিনইতো ভূতের নাতির জন্মদিনটা পড়েছে। দুর্গাপূজার কারনে কদিন ধরে ওদের সবার স্কুল বন্ধ। কিন্তু স্কুল বন্ধ হলে কী হবে। ওদের কি আর জিরোবার জো আছে? একগাদা হোম টাস্ক। তার ওপর একের পর এক টিচারের কাছে ছোটাছুটি। এছাড়া গানের টিচার, আঁকের টিচার। একটু খেলারও সময় পায়না ওরা কেউ। ওরা চারজনই একই স্কুলে, একই ক্লাসে পড়ে। চারজন খুবই ভালো বন্ধু। ভূতের নাতির জন্মদিন পালন বিষয়ে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য ওরা আজ সবাই রুহাদের বাসায় বসেছে। কিন্তু বেশি সময় কারো হাতেই নেই। বাসা থেকে ওদের আসতে দিতে চায়নি কেউ। অল্পসময়ের কথা বলাতে তবেইতো ওরা আসতে পারলো রুহাদের বাসায়। অথচ এখনও ওরা কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারলো না। সিদ্ধান্ত নেয়ার বদলে ওরা কেবল ভুত আছে কি নেই তা নিয়েই তর্ক করছে। বিশেষ করে আদিবা একদমই বিশ্বাস করতে চাচ্ছেনা। ওকে নিয়েই সাস্যাটন বেশি।