Calcutta review নামাঙ্কিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক পত্রিকায় ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের C. CIও CII সংখ্যায় 'Wahabis in India' শীর্ষক পর পর তিনটি সুবৃহৎ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধ লেখক ইংরেজ, কিন্তু ইচ্ছা করেই নিজের নাম গোপন রেখেছেন 'Anonymous' ছদ্মনামের আবরণে। কিন্তু এই বেনামা-লেখক যিনিই হোন, ওয়াহাবি, ফারাজি ও তিতুমীরের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তিনি সম্যক ওয়াকিবহাল এবং সরকারি নথিপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহেও ছিল তাঁর অবাধ স্বাধীনতা। সম্ভবত ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন সম্পর্কে এটিই ছিল ইংরেজিতে লেখা সর্বপ্রথম তথ্যবহুল সুবিস্তৃত আলোচনা-যার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমকালীন শাসক সম্প্রদায় ইংরেজদের ও তাঁদের অনুগ্রহ-নির্ভর হিন্দুদের স্বার্থগন্ধী। এজন্যে প্রবন্ধগুলোর আগাগোড়াই মুসলমান আজাদি যোদ্ধাদের কার্যকলাপ আশা-আকাঙ্ক্ষা এমনকি ধর্মীয় বিশ্বাসকেও বক্রদৃষ্টিতে লক্ষ করা হয়েছে, স্বার্থ-প্রণোদিত হয়ে বিকৃত করা হয়েছে এবং সে সবের তীব্র নিন্দাও করা হয়েছে।
১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২রা আগস্ট তারিখের 'হিন্দু পেট্রিয়ট' নামক উগ্র মুসলমান-বিদ্বেষী ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় একটি বৃহৎ মন্তব্য প্রকাশিত হয় ফারাজি, ওয়াহাবি প্রভৃতি মুসলমান মজহাবগুলোর আন্দোলনকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে। সেগুলোকে বলা হয় বিপজ্জনক সংস্থা, এমনকি বর্বরতা ও
ধর্মান্ধতাহেতু তৎকালীন ভারতের ও 'ন্যায়পরায়ণ' 'স্বার্থশূন্য মহাত্মা ইংরেজ বাহাদুরের' প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। অতএব তাদের 'যদি আমাদের বুকের ওপর শক্তি সঞ্চয় করতে দেওয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রের সমূহ বিপদ ঘটতে পারে। এজন্যে সরকারের উচিত হচ্ছে, ফারাজি ও ওয়াহাবিদের সম্বন্ধে এবং আরো যেসব সম্প্রদায় ভারতের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উচ্চাশা পোষণ করে, সে সবের তন্নতন্নভাবে তদন্ত করা।' আলোচ্য তিনটি প্রবন্ধে উপস্থাপিত এই প্রশ্নগুলোর জওয়াব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে স্বার্থগন্ধী দৃষ্টি দিয়ে। প্রথম প্রবন্ধটি ১৮৩১ সালে সৈয়দ আহমদের মৃত্যুকাল পর্যন্ত, দ্বিতীয়টিতে তিতুমীরের ভূমিকা ও সৈয়দ আহমদের পরবর্তী নেতাদের কার্যকলাপ এবং তৃতীয় প্রবন্ধে বিলায়েত আলী ও ইনায়েত আলীর উদ্যম, কর্মপ্রবাহ ও তাঁদের মৃত্যু এবং সিত্তানার ঘাঁটি ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত মুজাহিদদের কর্মময় জীবনের আলোচনা আছে।