বাবুলাল প্রামাণিকের মস্ত তাল গাছের ওপর দিয়ে তাজের মুনশি আকাশের দিকে তাকায়। অস্তগামী সূর্যকে গলাকাটা মুণ্ডুর মতোই মনে হয় তার। চারপাশে ছোপ ছোপ রক্তের মত সিঁদূরে মেঘ। এমন একটি গলাকাটা মুণ্ডু সে যেন কোথায় দেখেছিল; না এখন তা ঠিক স্মরণে আসে না। গলাকাটা, গুলি খাওয়া লাশ তো আর সে কম দেখলো না জীবনে। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে দেখে আসছে। মনের ধন্দ কাটে না মুনশির।br ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। কৈবর্ত পাড়ার কালী দেবীর মন্দিরের সামনে দিয়ে যাওয়া-আসার সময় ভয়ে চোখ দুটো আপনা থেকেই মুদে আসতো: দেবীর সেই রক্তাক্ত জিভ, গলার মুণ্ডু মালা, আর হাতে ধরা মুণ্ডুটা দেখলে ভয়ে পিলে পর্যন্ত চমকে উঠতো। তবে পুঁজোর সময় লোকজনের ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে পুঁজো দেখতে কোন অসুবিধা হতো না। ঢাক-ঢোলের বাজনা আর পাঁঠাবলি দেখতো প্রচণ্ড উত্তেজনা নিয়ে। কালী দেবীর পাশের শেয়ালের মূর্তিটা তাকে খুব বেশি আকর্ষণ করতো। মস্ত হাঁ করে থাকা শেয়ালের মুখে দেবীর হাতের মুণ্ডুটি থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত ঝরছে, দৃশ্যটি দেখে মুনশির শিশু মনে নানা প্রশ্নের উদয় হতো।