১৯৫৮ সালের কথা। সবেমাত্র ইরানের শাহানশাহের সাথে আমার বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়েছে। আব্বার সাথে তাঁরই বাড়িতে বাস করছি। একদিন কিছু সওদা করার উদ্দেশ্যে বাজারের পথে বেরিয়েছি। সাধারণ পোশাক আমার পরিধানে। আমার প্রতি কেউ নজর দিচ্ছে না। কেউ চিনতেও পারছে না। তবু যেন আমার পা জড়িয়ে যাচ্ছে। হাঁটতে পারছি না। মনে হচ্ছে, পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে আমি ভুলে গেছি। পথিমধ্যে বারবার পথচারীর সাথে ঠক্কর খেয়ে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে। আমার দৃষ্টিশক্তির প্রখরতায় কোনো সন্দেহ নেই। পদযুগলও বেশ মজবুত। কিন্তু দীর্ঘদিন ইরানের শাহানশাহের সম্রাজ্ঞী থাকায় ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা করার নিয়মকানুন আমি ভুলে গেছি। রানী থাকতে আমি ইরানের বড় বড় শহরে, রোমের ওয়ালেম্পিয়ায় ও প্যারিসের শহরতলীতে প্রায়ই ভ্রমণ করতাম। কিন্তু তখন ইরানের পদস্থ কর্মচারীরা আমার সাথে থাকতেন। তৈরি করে দিতেন চলার পথ। আমাকে কোনো চিন্তাই করতে হতো না।