দাঁড়িয়ে রয়েছি আমি।
কুয়াশা চারদিকে। আর কনকনে হাওয়া। নদীর ওপর দিয়ে ছুটে এসে ঢুকে যাচ্ছে শরীরের ভেতর। একেবারে মজ্জায়। তারপর ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে, ছিপছিপে অন্ধকারে। কুয়াশার চুড়োয় চাঁদ। ঘোলাটে। আর এই যে নদী আমার সামনে, কুয়াশার তল ছুঁয়ে হিম ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিরশিরে হাওয়া ছুটে যাচ্ছে কুয়াশার ভেতর দিয়ে। কেঁপে ওঠে কুয়াশা। কাঁপতে থাকি আমি।
অথচ চাঁদ স্থির। নদী স্থির। শব্দের স্থিরতা নেই। কুয়াশার শব্দ। হাওয়ার শব্দ। রাতপোকাদের শব্দ। একটু দূরে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালার পাতা থেকে শিশির ঝরে পড়ার শব্দ। এ রকমের নানা শব্দ মিলে আরেক রকম একক শব্দ, যা কেবল এই মুহূর্তেই শুনতে পাচ্ছি আমি। এই এক ভাষা। শব্দের ভাষা এবং সৌন্দর্যেরও।
আমার আঙুল কাঁপে। ঠোঁট কাঁপে। রক্তের ভেতর টের পাই আদিম শীতলতা। আর শুনতে পাই কোনও প্রাচীন গহ্বর থেকে উঠে আসা অস্পষ্ট ভাষা। যে ভাষা কেবলই হারিয়ে ফেলে মানুষ। যে ভাষা হারিয়ে যেতে যেতে লুকিয়ে থাকে ইথারে, হারায় না কখনও।