বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধতম এবং জীবস্ততম ক্ষেত্রের নাম কাব্য কবিতা। ১৯৭১ পরবর্তী সময়সারণি বেয়ে বাংলা কবিতাঞ্চলে অনন্য ব্যাপ্তি ও উৎকর্ষের দ্যুতি-বৈচিত্র্য মননগহন সমুদ্রে ঢেউ তুলেছে। প্রতিবেশী দুই বাংলার সত্তর দশক সময় বিচারে একই পর্বে হাতে হাত রেখে চললেও রাষ্ট্রগত চাহিদা আর প্রয়োজনের পার্থক্যে কবিকণ্ঠে চড়া নয়তো বা ভরা জোছনায় অবগাহন অনিবার্য হয়েছিল।
সত্তরের দশক চিহ্নিত কবিদশ নিয়ে নানা মতানৈক্য থাকলেও এই গ্রন্থে হৃদয়েসত্তর উজ্জীবিত কবিদের কবিমনধর্মের ছায়াপথ দেখার প্রয়াস রয়েছে, তার সঙ্গে নব প্রজন্মের কবিদের তৃণ থেকে উৎক্ষিপ্ত হৃদয়ভেদী বাণ কোথায় গিয়ে আঘাত করছে তারও একটা দিকরেখা রাখা হয়েছে 'অন্যান্য' প্রকরণে। না হলে মামাবাড়ির বাঁশঝাড়টা এত বড় সেটা প্রমাণ করতে বার্ষিককাল বাঁশবনে ঘুরপাক খেয়ে ‘ঝাড়’ বড় হয়তো অনুভব করা যায়— কিন্তু প্রমাণসিদ্ধতায় একটা জিজ্ঞাসা চিহ্ন থাকেই।
কবি নিয়ে কবিতা নিয়ে অনিঃশেষ উচ্চারণে এই গ্রন্থ আসলে ঢেউয়ের শীর্ষ থেকে এক পলকের জন্য কাব্যসমুদ্রের পেছনে ফিরে দেখা।