বৃহত্তর বঙ্গদেশে হিন্দু ও মুসলমান এই দুই সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বাস প্রায় হাজার বছরের। এই সহাবস্থান কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মোটের ওপর প্রীতিপূর্ণ ও সহনীয়ই ছিল। এইভাবে বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের যৌথ জীবনযাপনের ধারা বহুকাল ধরে সমাজে বহমান। এই অবস্থায় চিড় ধরে নানা সামাজিক-রাজনীতিক-ধর্মীয় কার্যকারণের ফলে। কলকাতা মহানগরী-কেন্দ্রিক উনিশ শতকের কথিত নবজাগৃতির সূত্রে সৃষ্ট সামাজিক-জাতীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্যবিনাশী ভ্রান্ত হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও তার অনুষঙ্গে লালিত সাংস্কৃতিক-সাম্প্রদায়িকতা হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ ও বিভেদকে দৃশ্যমান করে তোলে। সাহিত্য-মাধ্যম এই মনোভাব প্রকাশের প্রধান উপায় হয়ে ওঠে। এই বিদ্বেষ- বিভাজনের কর্মকাণ্ডে কমবেশি সম্পৃক্ত হন উনিশ শতকের কীর্তিমান আলোকিত মানুষেরাই। অবশ্য সামগ্রিক বিচারে এই প্রবণতার ত্রিবিধ বিন্যাস হতে পারে মূলত সম্প্রদায়- বিদ্বেষী লেখক-চিন্তক, সম্প্রদায়বিশেষের প্রতি কিছু ক্ষেত্রে বিরূপ অথচ প্রশংসাকুণ্ঠ নন এমন এবং শেষের দলে পড়েন যাঁরা নিরপেক্ষ ও ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি মনোযোগী।