বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও এই ভাষার প্রতি অবহেলা ও ঔদাসীনতার কারণে দুলাইন লিখতে গেলেই অনেক ভুল করে থাকি । কখনো বানান ভুল, কখনো যতিচিহ্নের ভুল আবার কখনো সন্ধি বা সমাসের ভুলে ভাষার সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলি । আমরাই বা কি করব, তা ছাড়া হাজারো বইয়ে অনেক ভুল বানান সহ একুশের বইমেলায় বিভিন্ন বই দেখা যায় । বানান নিয়ে বহু বিতর্কেরও সুরাহা হয়নি । এসব কারণেই বাংলা ভাষায় বহুবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা হাস্যকর বিষয় হয়ে ওঠে অনেক প্রসিদ্ধ সরকারি কলেজের দৈনন্দিন একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেখলাম
‘এতদ্বারা’ জানানো যাচ্ছে যে এই ‘এতদ্বারা’ শব্দটি ঢাকা কলেজ এতদ্বারা সঠিকভাবে লিখেছেন। এই যে, বিভিন্ন সরকারি কলেজের বানানের ভিন্নতার কারণে আমাদের ছাত্রসমাজ কোনটি সঠিক বানান বা কোনটি ভুল বানান তা নির্ণয় করতে পারছে না। শুধু এতদ্দ্বারা এই একটি শব্দ বা পাঁচটি শব্দ না । হাজারো শব্দ ভুল লেখা হচ্ছে । যার যা খুশি সে তাই লিখছে । এবং এই ভুল লেখা দিয়ে অফিস আদালত সচল আছে ।
আমরা ইংরেজিতে কিছু লিখতে গেলেই অভিধান দেখে জেনেবুঝে সঠিকভাবে লেখার চেষ্টা করি। কিন্তু মাতৃভাষা বাংলায় লেখার সময় আমরা অভিধান দেখার অনীহা প্রকাশ করি । এটা এক ধরনের আলসেমি বা বোকামি । আমরা শুধুমাত্র বানান ভুল লিখি না, বাক্যও ভুল লিখে থাকি । ভুল লেখা আমাদের এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।
আমরা মাতৃভাষাকে সম্মান দেখানোর জন্য বাংলা লিখতে বানানে যেন ভুল না করি । সঠিকভাবে লেখার চেষ্টা করব । এই ভাষার সঠিক ব্যবহার করে মাতৃভাষাকে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের আত্মমর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে ।