বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে যে ধর্মবোধ জাগ্রত রহিয়াছে তাহার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ যখন বনে জঙ্গলে পাহাড়ে পর্বতের গুহায় বসবাস করিত তখন হইতেই তাহাদের বসবাসের ও আহার- বিহারের প্রয়োজনে যে দ্রব্যসামগ্রীর প্রয়োজন হইত তাহা সংগ্রহের পরিশ্রম, সহজে পাওয়ার, নির্বিঘ্নে উপভোগের অধিকারের উপর অত্যাচারীর অন্যায় আগ্রাসন হইতে মুক্তি পাওয়ার প্রয়োজনীয়তায় এই ধর্মবোধের জন্ম হইয়াছে।
অর্থ বিত্ত পশু জমি ও নারী সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্যে যুদ্ধবিগ্রহ, জীবন ক্ষয় ও জীবনের অশান্তিময় অবস্থার নিরসনকল্পে যে বোধ বা ভাবের অভিব্যক্তি অন্তরে জাগ্রত হয়, তাহাই ধর্মবোধ নামে আখ্যায়িত হইতে পারে। ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত 'ধৃ' ধাতু হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। ধূ অর্থাৎ ধারণ করা। যাহা কিছু ধারণ করা হয় তাহাই ধৰ্ম্ম। মানুষ ধর্মের জন্য নয় বরং ধর্মই মানুষের জন্যে। ধর্মকে যে মানুষ ধারণ করে সে নির্বিরোধ জীবন যাপন করিতে পারে। এই নির্বিরোধ জীবন যাপনের অন্তরায় যে কর্মগুলি তাই অধর্ম নামে আখ্যাত।