বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশদের আদর্শবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়,এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন তাঁর শিষ্য ভিটগেনস্টেইন এবং পূর্বসুরি ফ্রেগে এবং তাঁকে ২০ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম যুক্তিবিদদের অন্তুর্ভুক্ত করা হয়। রাসেল এবং হোয়াইটহেড একত্রে প্রিঙ্কিপিয়া ম্যাথমেটিকা নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। যাতে গণিতকে যুক্তির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তাঁর দার্শনিক নিবন্ধ “অন ডিনোটিং” দর্শনশাস্ত্রে মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। দুটো গ্রন্থই যুক্তি,গণিত,সেট তত্ত¡,ভাষাতত্ত¡ এবং দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিত্ব এবং জাতিসমূহের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যে বিশ^াস করতেন। তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। রাসেল তাঁর অহিংস মতবাদ প্রচারের জন্যে প্রথম বিশ^যুদ্ধের সময় জেলেবন্দি হন,তিনি হিটলারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান,সোভিয়েত টোটালিটারিয়ানিজম এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণের সমালোচনা করেন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। যা ছিল তাঁর বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ যেখানে তিনি মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তিকে ওপরে তুলে ধরেছেন। এই পৃথিবীতে নান রঙের মানুষের বসবাস। পৃথিবীতে সকল মানুষের নিজস্ব চিন্ত-শক্তি আছে নিজের জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজস্ব চিন্তাকর্মের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজানোর প্রচেষ্টা করে। এর মাঝে জীবনকে অতিবাহিত করতে চায় এবং জীবনে সুখী হতে চায়। আমি এই বিশ্বাসে নির্ভয় করে এ বই লিখেছি যে,বহু অসুখী লোক সুপরিচালিত প্রয়াসের সাহায্যে সুখী হতে পারবেন।