আজ থেকে এক যুগ আগে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পৃথিবীর সিভিল সমাজের অবদান নিয়ে লেখা শুরু করি। আসলে বিশ্বের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করে নিজ নিজ দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি না করলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতো। আমরা মুক্তিযুদ্ধের এই দিকটি উপেক্ষা করেছি। ১৯৭২ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রে যে বয়ানটি প্রাধান্য পেয়েছে তা হলো বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের কাছে স্বাধীনতা প্রাপ্তির [বা দিবস] দিন হিসেবে চিহ্নিত নয়। চিহ্নিত বিজয় দিবস হিসেবে। এর কারণ আছে। বাঙালিরা ১৯৭১ সালের আগে শুদ্ধ বিজয় কখনও দেখেনি।
বরং তাদের ওপর ভীরুজাতির তকমা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং বিজয় মানুষকে গর্বিত করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধারাই মুখ্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। উপেক্ষিত হয়েছে মুজিবনগর [বাংলাদেশ সরকার] সরকার, গণহত্যা- নির্যাতন, হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের কর্মকান্ড, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অবরুদ্ধ দেশের মানুষের অসম সাহসিক প্রতিরোধ, বিশ্বের সিভিল সমাজ প্রভৃতি। এগুলো বাদ দিয়ে খালি যুদ্ধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করলে সে ইতিহাস এক পেঁশে হয়ে যায়।