ক্ষমাহীন নৃশংসতা চলচ্চিত্রটির কাজ সম্পন্ন করতে আমার চার বছরের বেশি সময় লেগেছে। ইতিহাসভিত্তিক কাজ করাটা বরাবরই চ্যালেঞ্জের বিষয়। আর বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে প্রথমেই আমরা দেখি বিটিশদের থেকে মুক্তির আন্দোলনে বাঙালিদের একটা বড় ভূমিকা ছিল। পাকিস্তান জন্মের পক্ষেও মূল যুদ্ধটা করেছিল বাঙালিরা। অথচ ১৯৪৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে ২৩ বছরের দীর্ঘ নিপীড়নের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৪৩ বছর পর, পাকিস্তানের সূচনালগ্ন থেকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের উপর যে নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল সে সম্পর্কে তাদের মুখ থেকেই আমি স্বীকারোক্তি আদায় করি। এদের বেশিরভাগই ছিলেন সরকারি প্রাক্তন কর্মকর্তা, সচিব, সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি। এছাড়া আমি সেসব ফুটেজও সংগ্রহ করেছি যেখানে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের প্রতি যে অবর্ণনীয় নৃশংসতা চালিয়েছিল সে বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে পাকিস্তানি চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্লিপিং থেকে শুরু করে বিবিসি, চ্যানেল ফোর, আল জাজিরার ফুটেজও। সব মিলে ক্ষমাহীন নৃশংসতা প্রামাণ্যচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের একটি দলিল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।