ইকবালের প্রতিটি পংক্তি যেন একেকটি মহাসমুদ্র, যার উপরিভাগের ঢেউ দেখে তলার গভীরতা পরিমাপ করা অসম্ভব। তাঁর কাব্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ একেকটি স্বতন্ত্র দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করে। সচেতন পাঠক মাত্রই জানেন, ইকবালের কাব্য কেবল নিছক বিনোদনের খোরাক নয়, বরং তা মননশীলতার নিপুণ অনুশীলন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শুধুমাত্র অনুবাদের উপর নির্ভর করায় পাঠক ইকবালের মূল সুরটি ধরতে ব্যর্থ হন এবং কাব্যরস আস্বাদন করতে গিয়ে গোলকধাঁধায় হারিয়ে যান। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই প্রতিটি অনুবাদের সমান্তরালে আমি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করাকে সমীচীন মনে করেছি। এখানে কেবল শব্দের মানে বলে দেওয়া হয়নি, বরং ঐ পংক্তির পেছনে থাকা ইকবালের দার্শনিক প্রেক্ষাপট উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে পাঠক কবিতার স্বাদ আস্বাদনের পাশাপাশি নিজেকে সমৃদ্ধ করার আত্মিক খোরাকও লাভ করবেন।