পড়ার টেবিলটা তপনের খুব প্রিয় জায়গা। ক্লাসের পড়া পড়তেও ওর খুব ভালো লাগে। পড়ালেখার ব্যাপারে কখনো কোনো ক্লান্তি নেই। ফাল্গুনের ঝিমিয়ে পড়া দুপুরটাতে তপন অঙ্ক করছিল। পাঁচটি ঘণ্টা একত্রে বেজে পরে যথাক্রমে ৩, ৫, ৭, ৮, ১০ সেকেন্ড অন্ত র অন্তর বাজতে লাগল। কতক্ষণ পরে ঘণ্টাগুলো আবার একত্রে বাজবে?
খুব বেকায়দা ধরনের অঙ্ক। অঙ্কের সঙ্গে জীবনের কী সম্পর্ক তা অবশ্য তপন বোঝে না।
খাতার ওপর কলমটা রেখে তপন সামনে তাকাল। নিরেট ছাইরঙা দেওয়ালটা ওর চোখের সামনে। ছাদ ছুঁয়ে একটা ঝলমলে ঝাড়বাতি। ডানপাশে খোলা জানালা। জানালার গ্রিল ঘেঁষে নারকেলের পাতা দুলছে। দূরে আকাশ। আকাশের রং এখন রুপার মতো জ্বলজ্বলে। তপনের পড়ার টেবিলটা দেওয়ালের দিকে মুখ করে ঘোরানো। দেওয়ালে সাঁটানো আছে একটা বিশাল বিশ্ব-মানচিত্রের পোস্টার।