"কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস" বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃ
হকিং এখন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শাস্ত্রের লুকেসিয়ান অধ্যাপক (Lucasian Professor)। এক সময় নিউটন ছিলেন এই পদের অধিকারী এবং পরে এ পদে ছিলেন পি. এ. এম. ডিরাক (P. A. M. Dirac)। এঁরা দুজনে ছিলেন অতিবৃহৎ এবং অতিক্ষুদ্র নিয়ে বিখ্যাত গবেষক। হকিং তাঁদের যােগ্য উত্তরসূরি। এঁর এই প্রথম বই থেকে সাধারণ পাঠক অনেক কিছুই পাবেন। এ বইয়ের বিরাট ব্যাপকত্ব যেমন আকর্ষণীয়, তেমন আকর্ষণীয় লেখকের মানসিক ক্রিয়া সম্পর্কীয় আভাস। পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, মহাবিশ্বতত্ত্ব (Cosmology) এবং সাহসের সীমান্ত এ বইয়ে সহজভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বইটা ঈশ্বর সম্পর্কেও বটে। হয়ত ঈশ্বরের অনস্তিত্ব সম্পর্কে। এর পাতায় পাতায় ইশ্বর রয়েছেন। আইনস্টাইনের বিখ্যাত প্রশ্ন ছিল, মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার সময় ঈশ্বরের কি অন্যরকম কিছু করার সম্ভাবনা ছিল? হকিং এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন। হকিং স্পষ্টই বলছেন তিনি ঈশ্বরের মন বুঝতে চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় তিনি এ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তে এসেছেন, সে সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত। এ মহাবিশ্বের স্থানে কোন কিনারা (edge) নেই, কালে কোন শুরু কিম্বা শেষ নেই এবং স্রষ্টার করার মত কিছু নেই।