টুটুলের মা নেই। অসুখ হয়ে মা মরে গেছে। টুটুল লেখাপড়ায় খুব ভালো। এই বয়সেই অনেক ছড়া শিখে গেছে সে। টুটুলের বাবা টুটুলকে খুব আদর করেন। রোজ রাতে টুটুলের সঙ্গে বসে অনেক গল্প করেন। রূপকথার সব গল্প। তারপর টুটুলকে তার পড়া বুঝিয়ে দেন। মুখে মুখে অনেক অঙ্ক শেখান। এতসব সত্ত্বেও টুটুলের কত যে যে একা একা লাে লাগে। মা নেই বলে টুটুলের মাঝে মাঝে মনে হয় এ পৃথিবীতে তার কেউ নেই। স্কুল থেকে ফিরে এসে কার সাথে গল্প করবে টুটুল? কে তাকে আদর করে দুধ-সন্দেশ খেতে দেবে? কে তাকে রাতের বেলা বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোবে? টুটুলের বাবা ব্যবসা করেন। ব্যবসা তার ভালো চলে না। তবু দিন রাত তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। টুটুলদের বাড়িটা বড়। বাড়ির ভেতরে অনেক গাছ গাছালি আছে। এসব গাছ টুটুলের দাদার হাতে লাগানো। টুটুলরা দাদার বাড়িতে থাকে। দাদা মারা যাবার পর এখন টুটুলের বাবা এই বাড়ির মালিক। টুটুলকে দিনের বেলা দেখার জন্যে বাড়ির পুরনো বুয়া রহিমা আছে।