পলাশির যুদ্ধের ১৭ বছর পর বাংলার সামাজিক ইতিহাসের এক স্মরণীয় সন্ধিক্ষণে লালনের জন্ম। অনেকেরই ধারণা, লালন ফকির জন্মসূত্রে হিন্দু কায়স্থ পরিবারের সন্তান এবং তাঁর জন্ম সেকালের নদীয়ার অন্তর্গত বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার অধীন কুমারখালী থানার ভাঁড়ারা গ্রামে। মাধব কর ও পদ্মাবতী তাঁর জনক-জননী। তীর্থভ্রমণ বা গঙ্গাস্নানে গিয়ে উৎকট বসন্তরোগে আক্রান্ত। জ্ঞানহীন লালনকে মৃত-বিবেচনায় তাঁর সঙ্গীরা নদীতে ভাসিয়ে দেয় বা অন্তর্জলি করে।
বাউলের গান যে বাঙালির অন্তর্জগতে টাাই করে নিয়েছে, তার মূলে রয়েছে লালন সাঁই ফকিরের (১৭৭৪-১৮৯০) অবদান। একটি অন্তর্মুখী মরমি সম্প্রদায়ের নিছক সাধন-সংগীত তাঁর স্পর্শে পেয়েছে সংগীত-সাহিত্যের মর্যাদা। আজ প্রায় দুই শতাব্দী লালনের গান একদিকে যেমন বাঙালির মরমি-মানসের অধ্যাত্ম-ক্ষুধা, অপরদিকে তেমনি রস-তৃষ্ণা মিটিয়ে আসছে।