বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনীতিবিদদের কারাযাপন একটি সাধারণ বাস্তবতা। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের জন্য সেটি অনেকটা অনিবার্যও বটে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের পুরো সময়জুড়ে কারাগার যেন ছিল তাঁর দ্বিতীয় আবাস। বারবার তিনি অ্যারেস্ট ও রি-অ্যারেস্ট হয়ে দীর্ঘ সাত বছর কারাযাপন করেছেন।
.
কারাবন্দিত্বের এই নির্মম দিনগুলোতেও তিনি থেমে থাকেননি। যখনই স্বল্পদৈর্ঘ্যরে মুক্ত জীবনের সুযোগ পেয়েছেন, তখনই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণ-আন্দোলনে। আর যখন কারার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি হয়েছেন, তখন তাঁর সহযোদ্ধা বন্দিদের মাঝে জ্বালিয়েছেন সাহসের আলোকবর্তিকা।
.
কারাজীবনের ধূসর দিনগুলোতে মিয়া গোলাম পরওয়ার হারিয়েছেন তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় পিতাকে। বৃদ্ধ মায়ের করুণ আকুতি কিংবা স্বজনদের উদ্বেগ তাঁকে করেছে আবেগাপ্লুত। কারান্তরালে তিনি হারিয়েছেন অনেক, কিন্তু যা অর্জন করেছেন তাও কম কী! পেয়েছেন কারাবন্দি শহীদ নেতৃবৃন্দের সান্নিধ্যের সুযোগ। ঋদ্ধ হয়েছেন বর্ণিল অভিজ্ঞতায়। লিখেছেন ছয়টি পূর্ণ বই।
.
মিয়া গোলাম পরওয়ারের কারাজীবনের এই দীর্ঘ ও বিচিত্র সময়েরই আখ্যান ‘লৌহকপাটের অন্যজীবন’। এই কারাস্মৃতি থেকে অনুসন্ধিৎসু পাঠক পাবেন বর্ণিত সময়কালের ইতিহাসের নানা উপাদান, রাজনীতির মানুষজন খুঁজে পাবেন প্রেরণার গল্প এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা পাবেন এই কণ্টকাকীর্ণ পথে চলার মূল্যবান রসদ।
হয়েছে।
নিয়ামত ও মুসিবত’ বইয়ে।