শাহরিক অথবা গ্রামীণ জনপদ-সব ক্ষেত্রেই জিয়া হাশানের কাহিনি বাস্তব জীবনের গভীরতল ছুঁয়ে ছুঁয়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে বহুস্বরের কথাবয়নে। কখনো সেসব দৃশ্যমান জীবন, সময়-পরিসর ও ঘটনা-পরম্পরা বিস্তৃত হয় যন্ত্রণাদগ্ধ রক্তস্রোতে, কখনো বিদ্রুপের কঠোর শাসনে। রুপালি আলেয়ার আয়োজন উপন্যাসেও তিনি ওই বহুস্বরের বিন্যাস ঘটিয়েছেন। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বিল-বাঁওড় অধ্যুষিত কুমুদখালি নামক এক জনপদের কাহিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী বছরগুলোতে গড়ে উঠেছে এই গল্প। যেখানে তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে সর্বহারাদের খুনোখুনি, গ্রামের প্রভাবশালী মহল, থানা-পুলিশ আর এসবের মধ্যে এক পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নায়-পাওয়া আনু নামের যুবকের অলৌকিক কর্মকাণ্ড রূপায়িত হয়েছে।
এভাবেই জিয়া হাশান বাস্তবের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন লোকায়ত বিশ্বাস, লোকমিথ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাঁকে বাঁকে ঘটে চলে যেন এক জাদুবাস্তবিক পরিস্থিতি।
অন্যদিকে জিয়া হাশানের ন্যারেটিভ। আঞ্চলিক শব্দের ধামাক্কা বিস্তারের সঙ্গে আধুনিক বা নাগরিক রুচিবোধের শিল্পসমন্বয়। বাক্যে বাক্যে খেলা করে কৌতুক, রসবোধ এবং লোকজীবনের ঘনিষ্ঠ আচার-সংস্কৃতির উল্লম্ফন। জিয়া হাশানের উপন্যাস-পাঠের আনন্দ এখানেই। স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক এবং সহজ অধিগম্য-ফলে দারুণ সুখপাঠ্য এই উপন্যাস।