মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিষয়-বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে মুসলিম কবিদের সর্বশেষ অবদান দোভাষী পুথি সাহিত্য। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত হাওড়া, হুগলী, ভুরশুট-মান্দারন ও কলিকাতার এক শ্রেণীর মুসলিম কবি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান এবং দেশীয় বা ধর্মীয় ইতিহাস ঐতিহ্যকেন্দ্রিক কাহিনী অবলম্বনে আরবী, ফারসী, উর্দু, হিন্দি বহুল বাংলা ভাষায়।
বিশেষ এক ধরনের কাব্য প্রণয়ন করে পশ্চিমবঙ্গের, এমন কি ঢাকা, চট্টগ্রাম প্রভৃতি এলাকার নগরকেন্দ্রিক অশিক্ষিত এবং অল্প-শিক্ষিত মুসলিম জনগণের সাহিত্য রসপিপাসা নিবৃত্ত করার প্রয়াস পান। এ শ্রেণীর সাহিত্যকেই পুথি সাহিত্য, ‘দোভাষী পুথি সাহিত্য” ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এ বিশেষ শ্রেণীর সাহিত্যের নামকরণ এবং এর ভাষার স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত করণের ক্ষেত্রে গবেষকদের মধ্যে আরো কিছু মতান্তর পরিলক্ষিত হয়।