রোববার দিনটা ছিল বেশ পরিষ্কার। সূর্যের আলোয় ঝঝক্ করছে বরফে- ঢাকা প্রেইরী। একটু একটু দখখন হাওয়া বইছে। কিন্তু কী ঠাণ্ডা বাতাসটা! জমাট বরফের ওপর পিছলে যেতে যেতে সেই ঠাণ্ডা বাতাসে শ্লেজের চাকায় কিচ্ কিচ্ শব্দ উঠছে। ঘোড়ার খুরে খুরে একঘেয়ে আওয়াজ দিচ্ছে-খট্ খট্ খট্। বাবার মুখে কথাটি ছিল না।
ছোট্ট শ্লেজ গাড়িখানায় আড়াআড়িভাবে রাখা পাটাতনের ওপর বাবার পাশটিতে বসে লরাও চুপচাপ্। বলার নেইও কিছু। সে চলেছে স্কুলে পড়াতে। এই সেদিনও ও ছিল স্কুলের ছাত্রী, আর আজ কিনা ও স্কুলের শিক্ষয়িত্রী। কেমন হঠাৎ করে ঘটে গেল ব্যাপারটা। ছোট বোন কেরীকে নিয়ে ও রোজ স্কুলে যাবে, বসবে নিজের আসনে ইডা ব্রাউনের সঙ্গে-এই আশা করাটা লরা প্রায় ছাড়তেই পারছে না। অথচ কাল ও স্কুলে পড়াবে।
সত্যি কথা বলতে কী, কেমন করে যে পড়াতে হয় সেটাই জানে না সে। স্কুলে সে কোনোদিন পড়ায়নি। বয়স এখনও ষোল পেরোয়নি তার। এমনকি পনের বছর বয়সের আন্দাজেও ওকে ছোট্টটি দেখায়। আর এখন যেন বেশি করেই ছোট মনে হচ্ছে তার নিজেকে।