চীনা দার্শনিক এবং তাওবাদের প্রবর্তক লাও ৎঝু বলেছেন, “একজন নেতা তখনই সর্বোত্তম হন যখন লোকেরা তার অস্তিত্ব সম্পর্কে খুবই কম জানে। যখন তাঁর কাজ শেষ হবে, তাঁর লক্ষ্য পূরণ হবে, লোকেরা বলবে : আমরা নিজেরাই করেছি।” এমন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি যখন সারা বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়ার তেমনই এক অদৃশ্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, হাজারো মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে আনছে।
সামাজিক আন্দোলন সংঘটিত হয় মূলত বিভিন্ন অধিকার আদায় কিংবা কোনো সামাজিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের মাধ্যমে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর থেকে মানুষকে একতাবদ্ধকরণের মঞ্চ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এই মিডিয়া জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতেও সক্ষম। কেননা, দাবী-দাওয়া উত্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে পাশ কাটিয়ে মানুষ এখন সহজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারছে এবং নীতিনির্ধারক মহল অনেকক্ষেত্রে তা আমলেও নিচ্ছেন। ফলে অংশগ্রহণমূলক এবং দায়িত্বশীল সরকার পরিচালনায় সোশ্যাল মিডিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক বলা চলে।