ভয় পাবার মতোই পরিবেশ। কলকাতা থেকে বেশ কিছুটা দূরে,বিহারের একটি স্বাস্থ্যকর পার্বত্য গন্ডগ্রাম কল্পনা করুন। স্থানীয় একটা বড় ধাতুর কারখানার জন্যেই যা বারোমাস কিছু কিছু লোক থাকে,নইলে গরমে বা বর্ষায় খাঁ খাঁ করবার কথা। তাও,কারখানার একটা নিজস্ব কলোনী আছে,সে একটা শহর বিশেষ। স্থায়ী কর্মচারীরা সেখানেই থাকেন। সেখানে ইলেকট্রিক আলোও আছে; আসলে শহরে নেই,(যদি অবশ্য শহর বলেন তাকে)-মানে আমি যখনকার কথা বলছি তখন ছিল না,সম্প্রতি হয়েছে। এই জায়গায় ধূ-ধূ মাঠের ভেতর পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ বিঘের বাগান,তার মধ্যে একটি বড় বাংলো ও গুটি দুই ‘আউট হাউস’। তবে কোন মান্ধাতার আমলে বার্ড কোম্পানীর কোন সাহেব এখানে এই বাড়ি তুলে আফিস-কাম-রেসিডেন্স বানিয়েছিলেন,আজও এটা তাই ‘বার্ড কোম্পানীর বাংলো’ বলে চলছে।মধ্যে দু-একটায় স্থায়ী বাসিন্দাও থাকেন কেউ কেউ; খানিকটা সিনেমাও হয়েছে একটি-অর্থাৎ ‘চেঞ্জার’ বাবুরা এলে পুজো থেকে ফাল্গুন-চৈত্র মাস পর্যন্ত নিয়মিত একটা করে শো হয়-বাকী সময়টায় ওঁরা মধ্যে মধ্যে ‘ফীলার’ দিয়ে দেখেন এক আধদিন-লোক না হলে আবার বন্ধ রাখেন। সে সময়ে এসব কিছু ছিল না,বাংলোর চারিদিকে মাঠ,দু-একটা আগাছা,বহু দূরে দূরে একটা দুটো বাংলো-তাতেও সব সময় ভাড়া থাকে না,ওদিকে একটা ছোট পাহাড়,সেখানে বেশ কটি প্রেমিকযুগল গলায় দড়ি দিয়েছে-আর এদিকে,মানে পুব দিকে এগিয়ে রেলের লাইন।