আকাশীদাদুর সেই আজব ঘড়িটার দিকে অনেক সময় আকলু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। আকলু বাইরের দিকের ছোট ঘরটা পেয়েছে। সেইখানেই তার পড়াশোনা,সেই ছোট ঘরেই তার রাত্তিরে শোয়া,আবার ইস্কুলের ছেলেরা কেউ এলে সেই ঘরেই ওদের গল্পগুজব চলে। আকলু মায়ের মুখে শুনেছে,মা-বাবার বিয়ের সময় আকাশীদাদু শখ করে এই বিলিতী ঘড়িটা ওদের উপহার দিয়েছিলেন। তারপর কত কাল কেটে গেছে,আকাশীদাদু পরলোকের পথে পাড়ি দিয়েছেন,সেও কত বছর হয়ে গেছে। কিন্তু আকাশীদাদুর দেওয়া সেই আজব ঘড়িটা এখনো আকলুর ছোট্ট ঘরের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে। যদিও ঘড়িটা এখন আর চলে না,তবু মা প্রাণে ধরে ওটাকে ফেলে দিতে পারেনি। আকাশীদাদু নাকি নতুন বউকে ডেকে বলেছিলেন,’বউমা,এই ঘড়িটা যত্ন করে রেখো। তোমার সংসার যখন আমার নাতিনাতনীতে ভরে যাবে-তখন এই ঘড়ির শব্দ শুনে তোমার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে। আর সেই সঙ্গে মনে করবে তাদের আকাশীদাদুকে।’