বাবার এমন পরিবর্তন আমি জীবনেও কল্পনা করতে পারিনি। কল্পনা করার কথাও না। কিন্তু সে অকল্পনীয় ঘটনাটাই ঘটে গেল হঠাৎ। বাবাকে অনেকদিন যাবৎ সাইকেলের জন্য বিরক্ত করছিলাম। বাবাও বারবার 'অমুক দিন এনে দিব, তমুক তারিখ এনে দিব' বলে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। সে 'অমুক দিন আসে, তমুক তারিখ আসে' কিন্তু আমার সাইকেল আসে না। ঐ অমুক দিন বা তমুক তারিখ দেখা যায়, বাবার চেহারা জুড়ে রাজ্যের অমাবস্যা ভর করে আছে। আমি সাইকেল না পেয়ে কান্না শুরু করি। বাবা তাঁর ওয়াদাটা নবায়ন করেন। আমি আবার নতুন আশায় দিন গুনতে শুরু করি।
একবার, দুইবার, তিনবার, চারবার নয়, বাবা বারবারই সে ওয়াদাচক্রে আমাকে ঘুরাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম, বাবা আমাকে সাইকেল কিনে দিবেন না, চলন্ত সাইকেলের মতো তার প্রতিশ্রুতিকে ঘুরাবেন। শফিউল যখন তার সাইকেল নিয়ে সাঁ সাঁ করে ঘুরতে থাকে, আমি তখন এতিমের মতো দাঁড়িয়ে থাকি, শুধু এক পাক সাইকেল চালানোর জন্য।