সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ইতিহাস বেশ পুরনো। এ ধারণাটা আসে পুঁজিবাদের ধারণা থেকে, যখন সামন্তবাদী সমাজ থেকে মানুষ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। পুঁজিবাদীরা চিন্তা করলো ততোদিন পুঁজির বিকাশ হবে না, যতোদিন না তাদের সংস্কৃতিকে সবাই অনুসরণ করবে। মূলত পণ্যের ক্রেতা বৃদ্ধি করার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন শুরু হয়। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, সংগীতকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বর্তমান সময়ের তথ্য প্রযুক্তি এ আগ্রাসনকে সহজতর করে দিয়েছে। যে কোন আগ্রাসনের প্রভাব ভয়ানক। আর তা যদি হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তবে তা আরো ভয়াবহ। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বার বার প্রয়োগ করতে হয় না। একবার কোন সমাজ বা দেশকে সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত করতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনা যায়। চলচ্চিত্র এমন একটি শিল্প মাধ্যম যা কোন অবোধগম্য ভাষার হলেও তা অন্য ভাষার দর্শকের সাথে সংযুক্তি ঘটিয়ে নেয়। আর সে কারণেই চলচ্চিত্রকে আগ্রাসনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পুঁজিবাদীরা কার্পণ্য করেনি।