শিক্ষাভাবনা’য় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, যা কেবল তথ্যই পরিবেশন করে না; যা বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।’ তিনি গতানুগতিক শিক্ষাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ‘এই শিক্ষা জোর করে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কৃত্রিম শিক্ষা, যার সঙ্গে জীবনের এবং শিক্ষার্থীর কোনো যোগ নেই।’
কবিগুরু ১৯১৪ সালে যখন সমুদ্রপথে জাপানে যাচ্ছিলেন, তখন পথিমধ্যে সমুদ্রে তেল নিঃসরণের দৃশ্য দেখে পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব নিয়ে খুব চিন্তিত হয়েছিলেন। সেই সময়েই তিনি মানুষের লোভ ও অপরিকল্পিত নগরায়নকে পরিবেশবিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধে কবিগুরুর বিজ্ঞানভাবনার গভীরতা, তাঁর জীবনে ও সাহিত্যে প্রেমবিরহের স্বরূপ, নারীভাবনা, সমাজচেতনা, বিপ্লবী চেতনা, প্রজাবৎসল জমিদারের পরিচয়পাওয়া যায়।
পতিসরে জমিদারি দেখাশোনা করতে গিয়ে সেখানকার প্রজাদের সাথে কতটা ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন, তার পরিচয় যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় সাহিত্যসাধনার বিষয় ‘পতিসরে বিশ্বকবির সাহিত্যসাধনা ও সমাজসংস্কারমূলক কাজ’ প্রবন্ধে।