রন্টু ঘুমিয়ে গিয়েছিল কাঁদতে কাঁদতে। ঘুম থেকে উঠেই দেখে টিনের ফুটো দিয়ে সূর্যের আলো। গর্তটা পরিষ্কার মোটামুটি। নতুন তৈরি কবরের মতো। ও দাঁড়ালেও মাথার উপর দিয়ে টিনের চালাটা বেশ উঁচুতে থাকে। হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না। সূর্যের আলো ধুলোর সঙ্গে মিলেমিশে থাকে বলে অসংখ্য, যেন সব পেন্সিল টর্চ জ্বালানো। গভীর রাতে ওকে যখন কিছু লোক এখানে নিয়ে এসে রাখল, তখন ক্লান্তিতে আর ভয়ে সে আধমরা। মাঝে পাউরুটি, কলা আর পানি খেতে দিয়েছিল।
পানিটা খেয়ে বাকি সব ও টান দিয়ে ফেলে বলেছিল, আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাও। লোকগুলো ধমক দিয়ে চুপ করে থাকতে বলে। একজন তো একটা চাকু বের করে বলে ওঠে, একদম চুপ্, এরপর থেকে যদি বিট্র্যামি করিস্ তাহলে খুব খারাপ হবে, যা বলছি, তাই শুনবি, বুঝেছিস্?
রন্টু চুপ করে যায়। কিছু বলে না, শুধু অন্ধকারে অসহায় তাকিয়ে থাকে। ওর মনে পড়ে বাসের ভিতরে লোকজন তেমন নেই। অনেক রাত তো!