ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে বা বাঁক বদলের সময় কিছু পথরেখা আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ব্যাপারটা কোনো ভদ্রলোকের আঁকা টেবিলের পরিকল্পনা নয় বরং এটা হতে পারে নূরলদীনের অমোঘ আহ্বান, “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?” এই আহ্বান আমাদের ঘাড় ধরে দাঁড় করিয়ে দেয় ঐক্যের আগুনের সামনে। আমরা দেখতে পাই চর্যাপদ থেকে ভোরের জন্ম, ময়মনসিংহ গীতিকার লোকগান, সাঁইজি’র সুর, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সুকান্ত… আমাদের মনে পড়ে, “জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।”
সিধু-কানু’র তীর ধনুক, ১৯৭১-এর গর্জন অথবা ২০২৪-এর গ্রাফিতির দেয়াল আমাদের দিকে আঙুল তাক করে। সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষণ মুখোমুখি দাঁড়ায়- আমরা কি আমাদের শেকড়, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে উদ্বাস্তুর মতো বিলিয়ে দেবো, নাকি আঁকড়ে ধরবো সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঐক্য পতাকা- যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের “জননীতি” ও ইতিহাস।
- মাহ্দী আনাম