জীবনের খণ্ডাংশের তীক্ষ্ণ তীব্র ইঙ্গতময় গল্প বলার উৎসাহে জন্ম হয়েছিলো ছোটগল্পের। জন্মলগ্নের প্রাথমিক দিনরাতগুলোতে ছোটগল্পে গল্প ছিলো রাজাধিরাজের মতো, সে-ই শাসন করতো লেখককে, তাঁর গল্পকে, গল্পের সমগ্র ভুবনকে। গল্প কথিত হতো জীবনের সামান্যাংশের, তবু তা সামান্য নয়, বরং তুলে ধরতে চাইতো সামান্যের দর্পণে অসামান্যকে।
তারপর এক সময় গল্পের গতি পরিবর্তিত হলো, ছোটগল্পে গল্পের ভূমিকা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে লাগলো এবং একদা দেখা গেলো, ছোটগল্প থেকে প্রায় অবলুপ্ত হয়ে গেছে গল্প, লেখক আর গল্প গড়েন না, তিনি তার বদলে তুলে ধরেন ক্ষণিক অনুভূতিপুঞ্জ, ক্ষণকালীন বোধ। গল্প হারিয়ে ফেললো তার মহিমাময় সিংহাসন, তার ভূভাগ চলে গেলো, এবং সেখানে শাসনাধিকারী হলো অনুভূতি, বোধ এবং অজস্র রকমের মানসিক' ব্যাপার। ফলত ছোটগল্পে অতর্কিতে হানা দিতে লাগলো আইডিয়া, বাধ্যধর্মিতা এবং প্রবন্ধের বিশ্লেষণ।