জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’। মাতৃভূমির পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের তীব্র আকাক্সক্ষায় উন্মাতাল একদল মানুষ। যারা দিনরাত্রি চলে, আলো হাতে—স্বাধীনতার খোঁজে। বিপ্লবী, বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’ তাঁদেরই কথা। বিপ্লব স্পন্দিত হৃদয়ের গহন-গূঢ় অনুভূতির আখ্যান। রহস্য, রোমাঞ্চ এবং দ্রোহের ধ্রুপদী শৈল্পিক এক মেলবন্ধন। বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী সংগ্রামের রক্তঝরা দিনগুলোর অবিনাশী এক মহাকাব্য। ১৩০৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশনা শুরু হলেও পরবর্তীতে ‘কুহেলিকা’র সবকটি পরিচ্ছেদ প্রকাশ পায় ‘সওগাত’-এ। গ্রন্থাকারে আবির্ভাব ১৯৩১ সালে, অমূল্য গোপাল মজুমদারের, ডি. এম. লাইব্রেরি থেকে। পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশক হতে এগিয়ে আসেন স্বয়ং প্রমীলা নজরুল। দেশপ্রেমের অগ্নিগর্ভ মন্ত্রে, আদর্শ-আত্মত্যাগের ধূসর কুয়াশায়, বজ্রপাণি-প্রমত্ত-জয়তীর হাতে দীক্ষিত জাহাঙ্গীরের দ্রোহের বহ্নিশিখা যেমন তীব্র, অনুরাগের চোরাস্রোতও তেমনি সুগভীর। সর্বগ্রাসী ঔপনিবেশিক বিপন্নতার ভেতরে একদিকে বিপ্লবী হওয়ার ডাক, অন্যদিকে প্রেমের জটিল আহ্বান, জাহাঙ্গীরের নিয়তির চোরাস্রোতে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পাঠকও নজরুলের হাত ধরে সেই উত্তাল সময়কে দেখে নানা দিক থেকে, নানারকম ছবিতে। ‘কুহেলিকা’, ব্যক্তিসুখ ও আবেগকে দেশের বেদিতে উৎসর্গের কালজয়ী এক আখ্যান যা শতবর্ষ পরে আজও পাঠককে আত্মোপলব্ধির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।