সুন্দরী সহপাঠী নীহার বানুর প্রণয় প্রত্যাশী বাবু একজন অতিশয় কদর্য এবং ভ্রষ্ট ধনীর আদরের দুলাল। অর্থবলে সে তার সকল অক্ষমতাকে অতিক্রম করে বন্ধু মহলে প্রচণ্ড প্রতিপত্তির অধিকারী হয়ে ওঠে। সাগরেদ শ্রেণির সুহৃদের মধ্যে নীহার বানুর বাল্য বন্ধু মিন্টু তার অতি সান্নিধ্যে এলে বাবু তার গোপন আকাঙ্ক্ষা বেগবান করে এবং মিন্টুর মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব পাঠায়। নীহার বানু এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ ছেলেমিপনা ও বাবুর দুর্বল ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ভেবে যখন কালক্ষেপণে মগ্ন, ঠিক তখনই একজন মেধাবী অভিবাসী ছাত্রের আবির্ভাবে সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যায়। মেধাবী এই ছাত্রের প্রতি নীহার বানুর উৎসাহ বাবুর নজরে পড়ে। তখন সে তার আদি হিংস্ররূপে পুনরায় নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে। ফলশ্রুতিতে মিন্টুর সহযোগিতায় নীহার বানু অপহৃত হয় এবং সুদীর্ঘ ছয় মাস পর তার বাক্সবন্দী কঙ্কাল উদ্ধার হলে সকল রহস্য বের হয়ে আসে।
এই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকলে গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামি বাবু পালিয়ে যেতে সমর্থ্য হয়। ভারত থেকে কিউবা, অতঃপর মেরিওলোটসে ভর করে আমেরিকা পৌঁছায়। সান ফ্রান্সিসকোতে দীর্ঘ সময় অতীব জৌলুশে রাজত্ব শেষে বিবেকের দংশনে এক সময়ে সে স্বদেশে ফেরে এবং কাকতালীয়ভাবে গ্রেফতার হয়। বাবুর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অদম্য আকাঙ্ক্ষার উৎপত্তিস্থল ইহলৌকিক কোনো বিষয়বস্তুর কারণে উদ্ভব হয় নাই, বরং তা সম্পূর্ণভাবে পারলৌকিক ব্যবস্থাপনার অগ্রিম প্রস্তুতির ফল হিসেবে কার্যকর হয়েছে। বিস্তারিত গল্পটির শেষাংশে বর্ণিত।