বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে হেঁটে যাবার সময় সান্টু খরগোশটাকে দেখতে পায়। ঘাসের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। ঘাসের সঙ্গে ছোট একটা বুনো ঝোপ থাকায় নিজেকে আড়াল করার সুবিধে পেয়েছে, কিন্তু মুখটা দেখে চিনে ফেলে সান্টু। অনেক দিন ধরেই বুনো ঝোপঝাড়ের আড়ালে খরগোশটাকে দেখতে পাচ্ছে ও। যেন ওর সঙ্গে বেশ একটা মজার খেলা খেলছে ওটা। আজও সান্টুকে এগোতে দেখেই সাঁই করে উধাও। তিন লাফে কোথায় যে পালালো ও ভেবেই উঠতে পারছে না। দুপা এগিয়ে, ঘন ঘাস যেখানে একটা মোটা বস্তার মতো পুরু হয়ে গজিয়ে উঠেছে, সেখানে মাথার নিচে হাত রেখে শুয়ে পড়ে।
বাঁশগাছের ফাঁকে ঝকঝকে টুকরো টুকরো আকাশ দেখা যায়। কী সুন্দর, ও নিজেকেই বলে। বানুর চোখের মতো কী? বানু ওর পিঠাপিঠি ছোট বোন। মাসখানেক আগে মরা গেছে। এই বাঁশঝাড়ের শেষ মাথায় ওকে কবর দেয়া হয়েছে। সান্টুর গায়ের ওপর দু-একটা শুকনো পাতা ঝরে পড়ে। ও সেগুলো সরায় না। ওর গাল বেয়ে জল গড়ায়। মা বলেছে, খিদের জ্বালায় খুব কষ্ট পেয়ে বানু মরে গেছে। মারা যাবার দিন বানু বলেছিলো, সান্টু ভাই আমি চম্পাকলা খাবো। সান্টু চম্পাকলা কোথায় পাবে? ওর কাছে তো টাকা নেই। মায়ের কাছে বলতে গেলে মা ধমক দিয়েছিলো।