তারা এতক্ষণে বেশ বুঝিতে পারিল, সে কোথায় আসিয়া পড়িয়াছে। একবার ভাবিল, কেন বৃদ্ধ পিতার কথা অবহেলা করিয়া অন্য পথ দিয়া আসিলাম, জানা পথে আসিলে হয়তো এ বিপদ ঘটিত না। তারা বুঝিল, সে নিষ্ঠুর ভয়ানক দস্যুদলের মধ্যে পড়িয়াছে।রমণী হইলেও তাহার অনিষ্ট করিতে তাহারা বিন্দুমাত্র সঙ্কুচিত হইবে না। বৃদ্ধের নিকটে তারা বলিয়া আসিয়াছিল, "আমি রঘুনাথকে ঘৃণা করি, কিন্তু তাহাকে ভয় করি না।"কিন্তু এখন সেই রঘুনাথের কণ্ঠস্বর শুনিয়া সে বড়ই ভীত হইল, তাহার সর্বাঙ্গ কম্পিত হইতে লাগিল। অন্য সময়ে যদি তারা রঘুনাথকে দেখিত, তাহইলে বাস্তবিকই বিন্দুমাত্র ভয় করিত না;কিন্তু এখন এই দস্যুদের সঙ্গে তাহাকে দেখিয়া ভয়ে তাহার প্রাণ উড়িয়া গেল। নিজের জীবনের জন্য তারা বিন্দুমাত্র চিন্তিত বা দুঃখিত হইল না; কিন্তু যে রঘুনাথকে সে কতবার ঘৃণায় দূর করিয়া দিয়াছে, যে রঘুনাথ তাহাকে পাইবার জন্য জীবন-মরণ পণ করিয়াছে, এরূপ নিঃসহায় অবস্থায় তাহার হাতে পড়িলে তাহার পালক-পিতার কি দুৰ্দ্দশা হইবে, তাহাই তখন তাহার মনে ভীষণ আন্দোলন উপস্থিত করিল।