রাজার জীবনে এমন খারাপ সময় আর কখনও আসে নি। দুনিয়াটাও নষ্ট হয়ে গেছে। বাপের মনে স্নেহ নেই, মায়ের মনে মায়া নেই। ওই যে দেখো এখন কেমন ঝগড়া লেগেছে দুজনে। আল্টা বাজার থেকে এক মস্ত ঝকঝকে ইলিশ এনেছেন। দেখলে কাঁচাই দাঁত বসিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তবু, মায়ের যা স্বভাব-বড় লোকের ঘরের মেয়ে তো, মাছে পেটে ডিম ঠাসা, এই হচ্ছে আল্টার অপরাধ। ওই নিয়ে দুজনে হুজ্জত চলছে। মা বলছেন, ওই মাছের যদি কোনো স্বাদ হয়। আল্টা বলছেন, আরে বাপু, ডিম আছে তো কী হয়েছে, ডিমেরও দাম আছে। আনো দেখি ওই একজোড়া পুরুষ্টু ডিম চার টাকার কমে!
রাজা তখন মনে মনে বলে, তবু ওই ইলিশ মাছ তোমাদের চেয়ে ভালো। ইলিশের পেটে তো তবু ডিম আছে, তোমাদের পেটে কিছুই নেই।
রাইফেল নয়, বন্দুক নয়, পিস্তল নয়, একটা শর্টগান চেয়েছিল রাজা। আবার সে কী খেঁকিয়ে ওঠা। ও-পাড়ায় আসাদুজ্জামান, তার সহপাঠী, অবশ্য জেলার বড় অফিসারের ছেলে, তার রয়েছে। সারাদিন ফট ফট করে এটা-ওটা শিকার করছে। শিকার তো ছাই খুব করছে, শিকারের চেষ্টা করছে আর কি?