বাংলাদেশের “গ্রাম স্বপ্নবান” শব্দটি যে বিরল সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ হিসাবে ব্যবহার করা যায় তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে গণমুখী নেতা তাজউদ্দিন আহমদ এর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ও মানবতাবাদী অন্য নেতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের কবি যে অমর সংগীত রচনা করেছিলেন হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হাট-বাজার, গ্রামবাংলা, শহর বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ওঠে আসার উপলক্ষে, সে কণ্ঠগুলোও আমরা পাই তাজউদ্দিনের কাছে। মাতৃভূমির বুকে আলো/ সাম্য প্রতিষ্ঠায়, এ পৃথিবীকে একটু ভালো, একটু সুন্দর, একটু শান্ত করার লক্ষ্যে আমার এই লেখা। (সূত্র: তাজউদ্দিন)। সারা জীবনই তিনি এই পথের কর্মী। রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছেন সেই বাংলাদেশ সত্য হয়ে উঠেছিল এক স্বাধীন কবিতা আরও স্বাধীন পুরুষের অপরিসীম আত্মত্যাগে, মুক্তির নেতৃতে।
স্বাধীন এ মানুষটি স্বাধীন দেশটি গড়তে চেয়েছিলেন মানবিক করে। গড়তে চেয়েছিলেন সোনার মানুষ, সোনার বাংলা। তিনি চেয়েছিলেন দেশের সব মানুষ খেটে খাওয়া শ্রমিক যেন স্বাধীন হতে পারে এবং তার নিজের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলার জাতির ইতিহাসে তাজউদ্দিন আহমেদ মতো মানুষই ছিলেন বলে এখনও তারা আমাদের অন্তরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। জাতির ইতিহাসের আশাবাদিতার, সংগ্রাম, গর্বের, গৌরবের। আবার শোকের ঘরে ঘরে যাবে সোনালি নয় তো রক্ত রঞ্জিত ধান। দেখবে সকাল সোনালি ভোরে দাঁড় দাঁড় করে বাংলার নদী। তিনি তাজউদ্দিন আহমেদের মতনই নীরব কর্মীর মতো কাজ করে গেছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অধ্যায়টি।
চট্টগ্রামকে ঘিরে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন এবং ছাত্র রাজনীতির একটি দলকে স্বপ্ন দেখায়। নিজেকে চেনার, নিজেকে জানার আন্দোলন নতুন পথ, নতুন আকাঙ্ক্ষার মুক্তির সংগ্রাম ও জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সময়ে অন্যরকম জীবন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, জাতির ইতিহাসের পথচলা। ২৫ মার্চ কালো রাতে আক্রমণের সাথে অন্যরকম জীবন-প্রত্যয় এবং যুদ্ধে বাতাস ভারতে গেলেন তাজউদ্দিন। ধানমন্ডি দায়িত্ব নিলেন তাজউদ্দিন। গঠিত হলো মুক্তিযুদ্ধের সরকার। পরিবার থেকে দূরে মুক্তিযুদ্ধের মূলধারায় অন্তহীন যোগাযোগ।
মুক্তিযোদ্ধারা নয়, তারা ছিলেন মুক্তির বাণিজ্যের সামান্য সীমান্তে নানা প্রান্ত। অথচ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, লড়াই, সংগ্রাম ছিলো যার মূল প্রেরণা। জীবনের ৩৬ বছর মাত্র ভারত বিরোধিতার গুজব ছড়ানোর সাথে ইতিহাসের আলাপচারিতা। মনিষীদের স্মরণে তিনি অমর। বৈশাখী ঝড়ে ছিন্নভিন্ন তাজউদ্দিনের মন বিজয়ের পথে। পুরনো সেই ক্ষত এবং পাঁচ শাখার একটি কিংবদন্তির মৃত্যু। মৃত্যুর অনন্ত এবং মৃত্যুপথিক নিঃসঙ্গ মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে নিঃশব্দ মুক্তি নয়। শেখ সাহেব দায়িত্ব-ভার এখন যিনি অধীর, এখনো অনেক ফাঁকি মনে আছে... আমাদের মনে থাকবে।