উত্তরের ছোট্ট মহকুমা শহর নীলফামারী। তখন বিদ্যুত ছিল না, পাকা রাস্তা ছিল না। যানবাহন বলতে রিক্সা আর গরুর গাড়ি। দূরে যেতে হলে রেলগাড়ি একমাত্র ভরসা। মানুষও হতদরিদ্র। কিন্তু পেছনে পড়ে থাকা শহরটার মানুষগুলো ছিল প্রাণশক্তিতে ভরপুর। সংস্কৃতি চর্চা আর খেলাধূলায় শহরটি দরিদ্র ছিল না, বরং ছিল ঐশ্বর্যমণ্ডিত। এই ছোট শহরের সংস্কৃতি চর্চায় আমার শিক্ষক পিতা মাতার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ফলে নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি- এসবের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা।
কী কারণে জানিনা আবৃত্তি আমাকে দখল করে ফেললো। তখন কবিতা যে তেমন করে বুঝি তা নয়। হয়তো কবিতার ছন্দোময়তা বা কিছু একটা আমার মনের গভীরে কোথাও একটা অনুরণন তুলেছিল বলেই কবিতা পড়ার সঙ্গে এত বছরের গেরস্থালি। হয়তো এটাই কবিতার শক্তি। স্কুল, কলেজে আবৃত্তি করেছি সুযোগমত, কিন্তু বেশিটাই ছিল নিজের জন্য। মনের আনন্দে কবিতা পড়া। আমার বাবাই ছিলেন আমার গুরু, আমার মা ছিলেন শ্রোতা। ঢাকার মঞ্চে আবৃত্তি করেছি অনেক পরে।
করোনা আমাদের জীবন থেকে যেমন দু’টি বছর কেড়ে নিল, তেমনি অনেক গুণী মানুষ, শ্রদ্ধেয় জন হারিয়ে গেলেন চিরতরে। বাংলাদেশেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারালেন করোনায়।