“আমি আসলে ‘পদ্যের লোক’। ওই অর্থে ঠিক ‘ছড়ার লোক’ নই। তাছাড়া লোকজন আমাকে ‘কবিতার লোক’ বলেই জানে। কয়েকটি ‘আউটবই’ অবশ্য লিখেছি। প্রকাশিত হয়েছে। আউটবই সংগ্রহও আছে। একটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। শিশুকিশোরদের জন্য একটি গদ্যের বইও লিখেছি ‘এক যে ছিলো শীত ও অন্যান্য গথ’। তিনটি সংস্করণ হয়েছে বইটির। মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘জয়বাংলা’র জন্য এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কারও জুটেছে। তারপরও কথাসাহিত্যের বা শিশুসাহিত্যের লোক নই বলেই জানে লোকে। তাই ছড়া-পদ্য লিখতে গিয়ে নিজেকে দলছুট মনে হয়। আর মনে পড়ে আমি তো আসলে ছড়ার লোকই ছিলাম। সেই কবে, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক দিনে, কয়েক শত ছড়া লিখেছিলাম।
পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়েছিলো। বেশির ভাগ ছড়াই ছিলো ‘গরম ছড়া’। একটি পান্ডুলিপিও তৈরি করেছিলাম ‘গরম ভাতে বিলাই বেজার’ নামে, সেই ত্রিশ-পয়ত্রিশ বছর আগে। সেই সব ছড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনে স্বৈরাচার বিরোধী অনুষ্টানে পড়েছি গলা উঁচু করে। বইটি বের হয়নি। ছড়া লেখাও ছেড়ে দিয়েছি। হারিয়ে ফেলেছি সেইসব কাঁচা বয়সের লেখা। কিন্তু ছড়া আমাকে ছাড়েনি। কবিতার সাথে মিশিয়ে নিয়েছি। আর ‘নির্দোষ’ ছড়া-পদ্য তো এখনও লিখি। মাঝেমধ্যে ছাপতেও দিই। দুইটি স্পাণ্ডুলিপি কবে থেকে পড়ে আছে টেবিলে। পদ্যের। ছড়ার। প্রতিবারই বের করবো ভাবি।
এক সময়, সেই কৈশোরে ছড়াকে সমাজ বদলের হাতিয়ার ভাবতাম, এখন মন বদলের হাতিয়ার ভাবি। ডুবে থাকি পদ্যে। ডুবে থাকি ছড়ায়। মনানন্দে লিখি। নিজের বাচ্চাদের জন্য লিখি। পান্ডুলিপি করি আর রেখে দিই। ভাবি একদিন প্রকাশিত হবে, আর পড়বে আমার প্রাণের শিশুরা।”