টোকিওর চিয়োদা শহরের কানদা অঞ্চল। সেখানকার জিমবোচো নামের জেলায় ছিল এক অদ্ভুত কফিশপ, যেখানে নাকি সময়কে পিছিয়ে নেওয়া যায়। স্টেশন থেকে একটু দূরে, সরু এক নিরিবিলি গলির এককোণে ছোট্ট একটা বোর্ডে লেখা ছিল দোকানটার নাম-ফানিকুলি ফানিকুলা।
ক্যাফের নামটা নেওয়া হয়েছিল ইতালির নেপলস অঞ্চলের এক জনপ্রিয় লোকগান থেকে। সেই গানটা মূলত তারের সাহায্যে চলা একটা পাহাড়ি ট্রেনের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রচনা করা হয়েছিল।
"অগ্নিঝরা ভিসুভিয়াস পর্বতের পথে, চল, আমরা ঢাল বেয়ে উঠে যাই..."
জাপানি ভাষায় গানটার কথাগুলো অনেকটা এমনই। সবাই অন্তত একবার হলেও এই গানটা শুনেছে। ছোটরা অবশ্য এই গানটাকে "দুষ্টু পরিদের প্যান্ট" নামের এক মজার প্যারোডি গান হিসেবেই চেনে
কিন্তু সময়ভ্রমণের এই কফিশপের নাম কেন সেই ইতালিয়ান গানের নামে রাখা হলো, সেটা কেউ জানে না। এমনকি মালিক নিজেও সেই ব্যাপারে অজ্ঞাত
কফিশপটার মালিকের নাম নাগারে তোকিতা। দুই মিটারেরও বেশি লম্বা, বিশালদেহী এক মানুষ। সবসময় বাবুর্চিদের সাদা ইউনিফর্ম পরে থাকে। চোখ দুটো সরু, কিন্তু চাহনি ভীষণ তীব্র। চেহারায় শান্ত-সৌম্য এক গাম্ভীর্য, যেন কোনো মন্দিরের দুয়ারে দাঁড়ানো পাথুরে প্রহরী। তার স্ত্রী কেই তোকিতা একসময় এই ক্যাফের ওয়েট্রেস ছিল। চোখে উজ্জ্বল হাসির ছাপ, মুখে সারাক্ষণ আনন্দের ছোঁয়া-এই অভিব্যক্তি দিয়ে সবার মন জিতে নিত
সহজেই। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দু'বছর আগে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়। তাদের ছোট্ট মেয়ে মিকি এখন বাবার সঙ্গে থাকে। মায়ের মতোই বড় বড়, উজ্জ্বল চোখ ওর।