‘ম্যানর ফার্মে’ বিপ্লব ঘটল হঠাৎ করেই। মালিক মি. জোন্সকে উৎখাত করে পশুরা দখল নিল রাতারাতি।
খামারের নতুন নাম হলো ‘অ্যানিমেল ফার্ম’। শুয়োরেরা বুদ্ধিমান, তাই সর্বসম্মতিতেই ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিল। পশুবাদের শর্তমতে কথা ছিল, সাম্য এবং মুক্তির স্বাদ পাবে পশুরা। কিন্তু পশুরা ক্রমশ টের পেল কিছুই পাল্টায়নি, কেবল মালিকই বদলেছে। শুয়োরেরা মালিক বনেছে এবং তাদের জীবন হয়ে উঠেছে আগের চেয়েও দুর্বিষহ।
জর্জ অরওয়েলের এই কালজয়ী রূপকধর্মী উপন্যাসোর মূল বাণী : বিপ্লব যদি ক্ষমতালোভীর হাতে পড়ে তবে পরিণতিতে কেবল কর্তৃত্বই বদল হয়, লক্ষ্য অধরাই থেকে যায়।
.
.
ম্যানর খামারের মালিক মি. জোন্স আকণ্ঠ মদ গিলে দায়িত্ব ভুলেছিলেন। তাঁর অলস এবং অসৎ কর্মচারীরাও পশুদের খাবার দেয়নি দিনভর। ক্ষুধার্ত পশুরা নিজেরাই গোলাঘরের দরোজা ভেঙে শস্যের দখল নিয়েছিল। নেপোলিয়ন এবং স্নোবলের নেতৃত্বে বুড়ো মেজরের স্বপ্নে দেখা বিপ্লবটি ঘটে গিয়েছিল অকস্মাৎ। বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিলো চারপেয়েদের স্বার্থ রক্ষা, এবং ‘সকল পশুই সমান’ এই মতবাদে নিষ্ঠ থেকে পশু প্রজাতন্ত্রের পত্তন করা। অথচ বিপ্লব তার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের আগেই আদর্শচ্যুত হলো এবং ক্রমশ সাধারণ পশুদের স্মৃতি থেকে বিপ্লবের উদ্দেশ্য ফিকে হতে লাগল। অতঃপর ভাবনারও অতীত এক নয়া সত্যের মুখোমুখি হলো ‘অ্যানিমেল ফার্মে’র পশুসমাজ…
‘সকল পশু সমান, তবে কেউ কেউ বাকিদের চেয়ে অধিকতর সমান।’