বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উইল ডুরান্ট বলেছিলেন, ‘যথাযথ প্রেক্ষিতে যে রসবোধের জন্ম হয়, তার সঙ্গে দর্শনের রয়েছে নিকট আত্মীয়তা- এরা একে অপরের আত্মাস্বরূপ।’ এই আত্মা থেকে উঠে এসেছে মুসা আল হাফিজের ছড়াবৃন্দ। যা একই সাথে সমকালীন স্বদেশের ভেতর-বাইরের ঘটনাবলীর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এবং জীবনের চলমান অভিপ্রায়কেও এড়িয়ে যায় না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাজনীতির প্রতারণা, বুদ্ধিবৃত্তিক ভেলকি কিংবা শান্তি নাশের জন্য শান্তি পুরস্কার প্রদান, সবই এক শূলে বিদ্ধ হয়েছে মুসা আল হাফিজের ছড়ায়। ছড়াবৃন্দ তাই পাঠককে শুধু ছড়াপাঠের আনন্দই দেয় না, বরং সমাজের অসঙ্গতিকে অস্ত্রোপচার করার উদ্যমও সরবরাহ করে।
কালোরাতে গণচেতনাকে জাগ্রত করে ভোরের শর্ত নির্মাণ মুসা আল হাফিজের ছড়াবৃন্দের মূল সুর। মৃত্তিকাসংলগ্ন, দেশকাল-সম্পৃক্ত এবং মননঋদ্ধ ছড়ার তুলি দিয়ে সমকালীন জীবনচিত্রণের মধ্য দিয়ে এই গ্রন্থ পাঠককে নিয়ে যায় জীবনবোধের প্রদীপ্ত রাজপথে।
— মাহ্দী আনাম