গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘এল ওতোনো দেল প্যাত্রিয়ার্কা’ শিরোনামে এই উপন্যাসটি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। মূল স্প্যানিশ থেকে ইংরজি ভাষায় ১৯৭৬ সালে অনুবাদ করেন গ্রেগোরি রাবাসা ‘দ্য অটাম অফ দ্য প্যার্ট্রয়িার্ক’ নামে। কাহিনির মূল নায়ক এক গোত্রপিতা এবং একটি রাষ্ট্রের একনায়ক যিনি কে এই দেশটি শাসন করছেন ২০০ বছর ধরে গোত্রপিতা বা একনায়ক? ক্যারিবীয় সাগরের উপক‚লে এক দরিদ্র দেশের পাহাড়ি এলাকার এক যাযাবর পাখিওয়ালী বেনদিসিয়ো আলভারাদোর গর্ভের বিবাহ বহিভর্‚ত অবৈধ সন্তান যিনি কখনো স্কুলে যেতে পারেননি পয়সার অভাবে তিনিই কালক্রমে হয়ে ওঠেন সে দেশের একনায়ক।
রাষ্ট্রের শাসনভার নেবার সময়েই এক রেড ইন্ডিয়ান ভবিষ্যদ্বগণনাকারীণী তাঁকে বলেছিলেন ১০৭ হতে ২৩২ বছর পর্যন্ত তিনি বাঁচবেন। তাই-ই হয়। জেনারেল অনন্তকাল অবধি বেঁচে চলেন আর শাসনকাজ অব্যাহত রাখেন। তিনি অসুখের নিরাময়কারী, ভূমিকম্প, বন্যা ও মহামারীর সংশোধনকর্তা আর তাঁর হাত থেকেই রাষ্ট্রের যত অন্ধ, খোঁড়া ও কুষ্ঠরোগীরা সুস্থ হবার জন্য লবণ নেয়। তাঁর হারেমে এক হাজার উপপতœী জেনারেলের ঔরসে তাদের সাড়ে সাতমাস বয়সী দেখতে বামুন সন্তানদের নিয়ে বাস করে যেহেতু জেনারেলের কোন সন্তানই স্বাভাবিক মানব সন্তানের চেহারা ও বৃদ্ধি নিয়ে জন্মায় না। অসংখ্য হত্যাপ্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করেছেন জেনারেল, দু’হাজার শিশুকে ডিনামাইটের তোপে সমুদ্রে উড়িয়ে দিতে তাঁর মুহূর্তের দ্বিধা হয়নি, দেশের যেকোনো বয়সের যেকোনো নারী বা কিশোরীকে যখনি চেয়েছেন সম্ভোগ করেছেন বলপ্রয়োগে, ক্ষমতার সম্ভাব্য সমস্ত প্রতিদ্ব›দ্বীকে তিনি হত্যা করেছেন।