গল্পটা তেহরানের!
শহরটার ইতিহাস, রা'জ'নী'তি এবং সংস্কৃতির!
আবার গল্পটা ভালোবাসারও!
একজোড়া তরুণ-তরুণীর প্রথম পবিত্র প্রেমের গল্প।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ১৯৫০-এর দশকের তেহরান থেকে শুরু হয়ে কয়েক দশক পর আমেরিকার নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ।
"The Stationery Shop of Tehran" বইয়ে লেখিকা ইরান অভ্যুত্থানের সময় একটি দেশের পরিস্থিতি দাম্পত্য জীবনে এর প্রভাব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মারজান কামালির এই উপন্যাসটিতে ১৯৫৩ সালের এই অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পটভূমি নয়, বরং গল্পের মূল মোড় পরিবর্তনকারী উপাদান।
রোয়া ও বাহমানের প্রেম: গল্পের মূল চরিত্র রোয়া (Roya), একজন আদর্শবাদী কিশোরী, যে তেহরানের 'মি. ফাখরি'-র স্টেশনারি দোকানে বই পড়তে ভালোবাসত। সেখানে তার পরিচয় হয় বাহমান (Bahman) নামে এক যুবকের সাথে, যে ছিল প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের কট্টর সমর্থক এবং রাজনৈতিক কর্মী।
অভ্যুত্থানের দিনের ট্র্যাজেডি: তাদের প্রেম যখন বিয়ের রূপ নিতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৯৫৩ সালের সেই ভয়াল আগস্ট মাসে তেহরানের স্কোয়ারে এক হিংস্র দাঙ্গা ও অভ্যুত্থান (Coup d'état) শুরু হয়। সেই বিশৃঙ্খলার মাঝে বাহমান নিখোঁজ হয়ে যায় এবং তাদের যোগাযোগ চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঐতিহাসিক আবহ: লেখিকা বইটিতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে একটি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, ভালোবাসা এবং ভাগ্যকে এক লহমায় ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রায় ৬০ বছর পর, ২০১৩ সালে এসে রোয়া ও বাহমানের আবার দেখা হয় এবং তারা সেই ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থানের পেছনের রহস্য উন্মোচন করে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৫৩ সালের এই গণতন্ত্র হত্যার ঘটনাই মূলত ইরানিদের মনে মার্কিন-বিরোধী ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পথ সুগম করেছিল।