“এক দফার হয়নি কবর” একটা ছড়াগ্রন্থের নাম। এই ছড়াগ্রন্থের নামের সাথে একটা রাজনীতির সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়। এই রাজনীতির সাথে গণমানুষের স্বপ্ন একাকার হয়ে আছে। এই ছড়াগ্রন্থের প্রতিটা ছড়ায় উচ্চারিত হয়েছে স্বৈরাচারের শিকড় উৎপাটনের মূল মন্ত্র। এই গ্রন্থের ছড়াগুলো মলাটবদ্ধ হওয়ার আগে পাঠকদের হাতে পৌঁছে গিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী জোটকে শক্তিশালী করেছিল। একটা ছড়া এরকম “রাজা মশাই ব্যস্ত কাজে। মন্ত্রী থাকেন লুটে। প্রজারা রয় ভোগান্তিতে। উজির মিয়ার কূটে”। এরকম ঝাঁঝালো ছড়া পড়ে অগ্নিঝরা দিনে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছিলো। আবার কিছু কিছু ছড়াকার এবং সভাকবিরা গণবিচ্ছিন্ন থেকে বিবেক বিসর্জন দিয়ে তেলে নাক লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন। ‘বদলে গেছে রাজ্য’ ছড়ার বক্তব্য এরকম “পকেট পুরে গটা-ঘটা রাজ্যতে না থাকে। আমি অধম সভাকবি। তেল যে ঢালি নাকে”।
এই ছড়াগ্রন্থের প্রতিটা ছড়ায় দুঃসময়ের একটা চিত্র আঁকা হয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনে লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়ম যেমন উঠে এসেছে তেমনি রয়েছে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে গত দেড় দশকে হয়ে যাওয়া প্রহসনের চিত্রও।
উঠে এসেছে জনপ্রতিনিধিদের চরিত্রও। লিখেছেন, ‘কথা দিলাম দুখের সময় থাকব সবার পাশ। আগের মতো করব নাকো কারও সর্বনাশ’। ২৪ গণহত্যার সময় ফ্যাসিস্ট সরকারকে সতর্ক করেছেন এভাবে, “জবরদস্তি যতই করো সাজাও হাজার মিছে। পার পাবে না পরিণতি আসছে পিছে পিছে’। একই ছড়া শেষ করেছেন
হুঁশিয়ার করে ‘সবকিছুরই শেষ আছে ভাই, হয় না কিছু চির। চৌরাস্তাতে ঝুলতে পারে তোমার দামী শিরও”। হয়েছিলও তা।