অদ্ভুত হাসি হাসে ফার্মার ওক। যাকে বলে আকর্ণবিস্তৃত হাসি। চোখের জায়গায় তখন চোখ নেই, শুধু দুটি চেরা দাগ। চোখের তলা কুঁচকে গিয়ে ভোরবেলার সূর্য কিরণের মতো সারা মুখে ছড়ানো।
গ্যাব্রিয়েল হলো ওকের খ্রিস্ট নাম। কাজের দিনে তাকে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই দেখায়। ঠিকঠাক পোশাকে সেদিন সে বেশ স্বচ্ছন্দ। কিন্তু রবিবারের ভালো পোশাকটি পরে, ছাতা মাথায় তাকে দেখতে হবে না। মনে হবে আনাড়ি। মনে হবে খালিই থতমত খাচ্ছে।
প্যারিসে যেমন কেউ কেউ থাকে নিষ্ঠাবান খ্রিস্টান, তেমনি থাকে মদ খেয়ে মাতালও। ওক ভাবে, ওদের মাঝখানে যারা, ধর্ম নিয়ে যারা মাথা ঘামায় না, তাদের জন্যও একটা জায়গা তো থাকতেই হয়। ওক হলো সেইখানকার মানুষ। তাই চার্চে যখন সারমন্ দিচ্ছেন যাজক, গোপনে সে হাই তোলে। প্রার্থনার গম্ভীর সময়ে দুপুরের মেনু কী সে কথা ভাবতে বসে। মেজাজ যখন ভালো, লোকেরা তাকে ভালোই বলে। বন্ধুরাও। আর খারাপ থাকলে ঠিক উল্টো। খুব খারাপ তখন ওক। তবে মেজাজ যখন খারাপ ভালো কোনোটাই নয়, তখন ওক সম্বন্ধে কোনো বিশেষ মত নেই তাদের। তখন তারা বলবে, 'হ্যাঁ, আছে একরকম।'